ভোটার তালিকায় ভয়ংকর গরমিল! বাংলায় ৯১ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসামঞ্জস্য স্বীকার করল কমিশন

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:০৩: বাংলার ভোটার তালিকায় বিপুল পরিমাণ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসামঞ্জস্যের কথা কার্যত স্বীকার করে নিল কমিশন। সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটারের তথ্যে বড়সড় গরমিল পাওয়া গিয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে এই অভিযোগের সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লক্ষ বলে দাবি করা হয়েছিল, তবুও কমিশন সূত্রে বর্তমানে যে ৯১ লক্ষের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
কমিশনের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে অদ্ভুত সব পরিসংখ্যান, যা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার এমন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁদের বাবার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর বা তারও কম। এখানেই শেষ নয়, উল্টো চিত্রও ধরা পড়েছে প্রকটভাবে। প্রায় ৮ লক্ষ ৪১ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য দেখানো হয়েছে ৫০ বছরেরও বেশি। এছাড়াও প্রায় ৩ লক্ষ ভোটার এমন আছেন, যাঁদের সঙ্গে ঠাকুরদা বা ঠাকুমার বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম। আবার ২৪ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তালিকায় এক পিতার ৬ বা তার বেশি সন্তান নথিভুক্ত রয়েছে। কমিশনের মতে, এই ভোটারদের ম্যাপিং পাওয়া গেলেও বয়সের এই অদ্ভুত পরিসংখ্যানগুলি যুক্তিযুক্ত বা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এই বিপুল সংখ্যক অসামঞ্জস্যের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নামের বানান বা নথির গরমিল। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেলফ ম্যাপিং বা প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের সময় প্রায় ৫১ লক্ষ ভোটারের তথ্যের সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মূলত নামের বানানের তফাতের কারণেই এই সমস্যা। অর্থাৎ ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকলেও বর্তমান তালিকার সঙ্গে বানানের গরমিলের জেরে এই ৫১ লক্ষ মানুষকে শুনানির হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। যদিও অভিযোগ উঠছে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের গাফিলতি বা টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুলের কারণেই সাধারণ মানুষকে এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলায় ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার খসড়ায় ইতিমধ্যেই রাজ্য থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এর বাইরেও আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের কোনওরকম ম্যাপিং বা হদিশ পাওয়া যায়নি বলে কমিশন সূত্রে খবর। তার ওপর নতুন করে এই ৯১ লক্ষ অসামঞ্জস্যের তথ্য সামনে আসায় রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।