বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলছে গোটা দেশ, বলছে সিএমআইই-র রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১.৪০: সদ্য শেষ হওয়া বছরে, স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণা ছিল— আগামী দু’বছরে সাড়ে তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি জন্য এক লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প! এই ঘোষণাকে সামনে রেখে বিহার বিধানসভা প্রচারে নেমে পড়ে পদ্ম শিবির। পশ্চিমবঙ্গও বাদ ছিল না। কিন্তু, বাস্তব চিত্র একেবারে আলাদা। বিশেষজ্ঞ সংস্থা সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির (সিএমআইই) রিপোর্ট বলছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে গড় বেকারত্বের হার ৬.৯ শতাংশ। নভেম্বর মাসে যা ছিল ৪.৭ শতাংশ। বৃদ্ধির শতকরা বিচারে দেখা যাচ্ছে, বছর শেষে মাত্র একমাসে কর্মহীনতার হার বেড়েছে ৪৬ শতাংশের বেশি। ইঙ্গিত পরিষ্কার, বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলছে গোটা দেশ!
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সাফ জানাচ্ছেন, স্থায়ী কর্মসংস্থানের বদলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই মোদীর তৃতীয় ইনিংসেও দেশে চাকরির জন্য এই হাহাকার অব্যাহত। এমনিতেই বছর শেষে গ্রামীণ এলাকায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাজ পাওয়ার সুযোগ অনেক কমে যায়। এই সময় কর্মদাতারা ঋণ শোধের দিকে বেশি জোর দেয়। ফলে দৈনিক মজুরি দিয়ে কাজ করানোর প্রবণতা কমে যায়।
রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীও কেন্দ্রের বেসরকারিকরণ নীতিকেই বেকারত্বের হার বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী একদিকে মুখে বছরে দু’কোটি চাকরির কথা বলছেন, আর যে সমস্ত সংস্থায় স্থায়ী কর্মসংস্থান সম্ভব সেগুলি এক এক করে বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই বিজেপি সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
নভেম্বরে দেশে শহর এবং গ্রামীণ এলাকার বেকারত্বের হারে তেমন কোনও ফারাক ছিল না। তবে সিএমইআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন এবং অক্টোবরে তা ছিল যথেষ্ট বেশি। যদিও পিএলএফএস সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশ করে ওই দু’মাসের বেকারত্বের হার যথাক্রমে ৫.৬ ও ৫.২ শতাংশ ছিল বলে দাবি করেছিল নয়াদিল্লি। জানানো হয়, জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বেকারত্বের হার এক মাসে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫.৬ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে।