২০২৬ বিশ্বকাপে বডি ক্যামেরা ও উন্নত অফসাইড প্রযুক্তি চালুর ভাবনা শুরু FIFA-র
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১২:৩০: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রেফারিং ব্যবস্থায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি এবং কঠোর সময়নিয়ন্ত্রণের নিয়ম চালুর কথা ভাবছে FIFA। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলকভাবে যে প্রযুক্তিগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলিকেই আরও উন্নত করে বিশ্বকাপে আনার পরিকল্পনা চলছে বলে জানালেন সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা।
FIFA-র ডিরেক্টর অব ইনোভেশন জোহানেস হোলৎসমুলার জানান, রেফারির বডি ক্যামেরা এবং উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হতে পারে। ক্লাব বিশ্বকাপে সফলভাবে পরীক্ষিত ‘রেফারি উইথ ইউ’ নামে পরিচিত এই বডি ক্যামেরা প্রযুক্তিতে দর্শকরা টিভি সম্প্রচার ও স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় সরাসরি রেফারির চোখে দেখা মুহূর্ত উপভোগ করতে পারেন।
হোলৎসমুলারের কথায়, “এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে বিশ্বকাপেও এই প্রযুক্তি আনার চেষ্টা করা হবে।” তবে সব ধরনের নিয়ম পরিবর্তনের জন্যই আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওয়েলসে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB)-এর ছাড়পত্র প্রয়োজন।
এদিকে অফসাইড সিদ্ধান্ত দ্রুত করার লক্ষ্যে ক্লাব বিশ্বকাপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অফসাইড সংক্রান্ত অডিও অ্যালার্ট সরাসরি সহকারী রেফারির কাছে পাঠানো হয়, যাতে VAR-এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করতে হয় এবং খেলার গতি বজায় থাকে।
FIFA রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, গোলকিপারদের বল ধরে রাখার সময় নিয়েও কড়া নজরদারি চালু করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গোলকিপাররা ২০-২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত বল ধরে রাখছিলেন, যা খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছিল। তাই নতুন নিয়মে আট সেকেন্ড পার হলেই রেফারি হস্তক্ষেপ করবেন।
কলিনার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আজকের রেফারিং ব্যবস্থা তাঁর খেলার সময়কার তুলনায় “দিন আর রাতের পার্থক্য”—আর এর মূল লক্ষ্য খেলাকে বদলে দেওয়া নয়, বরং আরও ন্যায্য ও গতিময় করে তোলা।