বাংলাদেশে অব্যাহত হিন্দুদের ওপর হামলা! কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল তৃণমূল

January 3, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:৪৭: বাংলাদেশে (Bangladesh) চলমান অস্থিরতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ক্রমবর্দ্ধমান। ময়মনসিংহের ঘটনার পর এবার শরীয়তপুরে একই ধরনের হামলার অভিযোগ উঠল। জেলার ডামুড্যা এলাকার ব্যবসায়ী খোকনচন্দ্র দাসকে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়, পরে তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও তিন দিনের মাথায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চলা এই ‘অরাজকতা’ ও ‘আইনহীনতা’ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের (Narendra Modi Govt) ভূমিকা এবং নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে X হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) কড়া বিবৃতি দিল ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূলের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে করা একটি পোস্টে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দুটি মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যা, লিঞ্চিং বা পিটিয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শরীয়তপুরে এক মধ্যবয়সী ফার্মেসি মালিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং ঢাকায় ন্যাশনাল বার্ন ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ঘটে চলা এমন ঘটনায় তারা ‘স্তম্ভিত’ এবং ‘গভীরভাবে শঙ্কিত’।

এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দল। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়ে তারা সর্বদা দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশেই দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নীরবতাকে ‘ব্যাখ্যাহীন’ বলে অভিহিত করেছে তারা। তৃণমূল নেতৃত্বের প্রশ্ন, আক্রান্তদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক স্তরে কী আলোচনা শুরু হয়েছে? বা বাংলাদেশের ওপর ভারতের পক্ষ থেকে কী ধরনের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে?

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির (Bengal BJP) বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, যখন কেন্দ্র সরকার দৃশ্যত হাত গুটিয়ে বসে আছে, তখন স্থানীয় বিজেপি (BJP) নেতারা বাংলায় সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছেন। বিভাজনের রাজনীতি এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করে বাংলায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ধিক্কার জানিয়েছে তৃণমূল।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen