কৈলাসের গালিগালাজের ভিডিও মুছল NDTV! সংবাদমাধ্যমে পুঁজিবাদী আগ্রাসন নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক

January 1, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:১৮: দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের তকমাধারী ইন্দোরেই ঘোলাজলের স্রোত। দূষিত জল খেয়ে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু ঘিরে উত্তাল মধ্যপ্রদেশ। মৃতদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি না- এই সহজ প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya)। সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে ছুড়ে দিলেন অশ্রাব্য গালিগালাজ। যদিও সেই দম্ভ বেশিক্ষণ টিকল না। শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন মন্ত্রী। আর মন্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে নির্ভীক সাংবাদিকতার নজির গড়ায় সাংবাদিক অনুরাগ দ্বারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

ঘটনার সূত্রপাত ইন্দোরে দূষিত জল খেয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার যখন এই ঘটনায় কোণঠাসা, তখনই মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে প্রশ্ন করেন প্রবীণ সাংবাদিক অনুরাগ দ্বারী। জানতে চাওয়া হয়, মৃতদের পরিবারকে কী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে? অস্বস্তিকর প্রশ্ন শুনেই মেজাজ হারান কৈলাস। তিনি বলেন, “মিডিয়া আমার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।” এরপরেই ক্যামেরার সামনে সাংবাদিককে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন তিনি।

মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তবে এই ঘটনায় সাংবাদিক অনুরাগের মেরুদণ্ড সোজা রাখা মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে ওই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে অভিষেক লেখেন, “খুব ভালো অনুরাগ দ্বারী। ভারতের আপনার মতো আরও বেশি মানুষের প্রয়োজন- যাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সাহসী ও আন্তরিক। আগের চেয়েও এখন বেশি!”

কেবল প্রশংসাই নয়, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা নিয়েও তোপ দেগেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি লেখেন, “আমরা এমন এক দেশে বাস করি যেখানে একটি নিউজ চ্যানেল তাদের নিজেদের সাংবাদিকের ওপর শাসক দলের নেতার মৌখিক আক্রমণের টুইটটি মুছে দেয়, কেবল প্রশ্ন করার অপরাধে। নিজেদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ানোর বদলে চ্যানেলটি নীরব থাকাই শ্রেয় মনে করেছে; সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চেয়ে তারা ‘ক্ষমতা’কে আড়াল করতেই বেশি আগ্রহী।”

তিনি আরও লেখেন, “স্বজনপোষণমূলক পুঁজিবাদ (Crony Capitalism) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই হাল করেছে, যেখানে সত্যের চেয়ে মালিকানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবাদিকতার সাহসের জায়গা নিয়েছে ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতা। এটাই তথাকথিত ‘নিউ ইন্ডিয়া’। আর এই চ্যানেলের মালিক কে, তা অনুমান করার জন্য কোনো পুরস্কারের প্রয়োজন নেই। সব চঙ্গা সি!” (সবই ঠিক আছে!)।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen