“আমরাই দেশ চালাব”—মাদুরো গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আধিপত্যের ঘোষণা ট্রাম্পের

January 4, 2026 | < 1 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ৯.৩০: ভোরের অন্ধকারে ভেনেজুয়েলার মাটিতে যে অভিযানের ছাপ পড়ল, তা শুধু সামরিক মানচিত্রেই নয়—আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণেও তীব্র আলোড়ন তুলেছে। মার্কিন সেনার আকস্মিক অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এরপরই বিস্ফোরক ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—ভেনেজুয়েলার শাসনভার আপাতত পরিচালিত হবে আমেরিকার হাতেই।

অভিযানের পর ভারতীয় সময় অনুযায়ী শনিবার গভীর রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও নতুন নেতৃত্ব বসানো হবে না। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা চলছে, তা এখনও কাটেনি। সেই কারণেই শাসনভার নিজেদের হাতে রাখতে বাধ্য হচ্ছে আমেরিকা।

শুধু প্রশাসন নয়, ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈলভাণ্ডার নিয়েও বড় ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আমেরিকার বৃহৎ তেল সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে এবং বিপুল বিনিয়োগ করে সে দেশের ভেঙে পড়া জ্বালানি পরিকাঠামো পুনর্গঠন করবে। এর ফলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে বলেও দাবি তাঁর।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা যদি আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করে, তবে আরও বড় সামরিক হামলা চালাতে পিছপা হবে না ওয়াশিংটন। অভিযানের সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তি কার্যত নিষ্ক্রিয় করে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে রয়েছেন এবং তাঁদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে এই অভিযানের নেপথ্যে মাদকবিরোধী লড়াইয়ের আড়ালে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের দখলই আসল উদ্দেশ্য—এমন অভিযোগ তুলেছে কারাকাস। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশও মনে করছে, ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত থাকা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন কার্যত আমেরিকার শক্তির রাজনীতির হাতে বন্দি।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen