বিনোদন বিভাগে ফিরে যান

ফ্লপ মাস্টার থেকে মহানায়ক হয়ে উঠেছিলেন উত্তম কুমার 

September 3, 2020 | 2 min read

তিনি ছিলেন প্রচণ্ড থিয়েটার অনুরাগী। সেই ছোটবেলা থেকেই ছিলেন যাত্রার ভক্ত। লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে চুরি করে দেখতেন থিয়েটারের রিহার্সাল। দেখতেন যাত্রারও রিহার্সাল। স্কুলের বার্ষিক উৎসবে গয়াসুর নাটকে ছোট গয়াসুরের ভূমিকায় অভিনয় করে হইচই ফেলে দিলেন। অভিনয়ের প্রতি ঝোঁকটা বেড়েই চলল ক্রমশ। মনের গহিনে চলল সোনালি স্বপ্ন বুনন, রুপালি পর্দায় অভিনয় করার। 

লালিত স্বপ্ন দেখা দিল বাস্তব হয়ে। অচিরেই মিলল সুযোগ। ১৯৪৭ সাল। বাড়ির ভাড়াটে গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে ভোলানাথ আঢ্যের ‘মায়াডোর’ নামের একটি হিন্দি ছবিতে ছোট্ট একটা রোল পেলেন অরুণ। দৈনিক পাঁচ সিকি পারিশ্রমিকে পাঁচ দিন অভিনয় করলেন। কিন্তু ‘মায়াডোর’ মুক্তি পায়নি। 

দ্বিতীয় সুযোগটি এল ঠিক পরের বছরই। ‘দৃষ্টিদান’ ছবিতে অভিনয় করলেন নায়কের ছোটবেলার ভূমিকায়। কমিশন বাদ দিয়ে এ ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক দাঁড়াল সাড়ে ১৩ টাকা। ওই বছরের মাঝামাঝি তিনি কাজ শুরু করলেন নবেন্দুসুন্দর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘কামনা’ ছবিতে। নায়কের ভূমিকায়। পারিশ্রমিক ১ হাজার ৫০০ টাকা। 

১৯৪৯ সালে মুক্তি পেল ‘কামনা’। কিন্তু সুপারফ্লপ। ভীষণ মুষড়ে পড়লেন তিনি। এরপর সরোজ মুখার্জির ‘মর্যাদা’ ছবিতে অভিনয় করলেন নায়ক হিসেবে। তবে পরিচালকের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নাম পাল্টে অরুণ কুমার হয়ে গেলেন অরূপ কুমার। কাজ হলো না। দর্শকপ্রিয়তা পেল না ছবিটি। আবার নাম পরিবর্তন করা হলো। উত্তম কুমার। 

‘সহযাত্রী’ ছবিতে উত্তম কুমার নামে অভিনয় করলেন। অসফল হলো ছবিটি। অসফলতার ধারাবাহিকতায় যোগ হলো আরও একটি ছবি ‘নষ্টনীড়’। এরপর ‘সঞ্জীবনী’ এবং ‘কার পাপে’। শেষে ‘বসু পরিবার’। সেটা ১৯৫২ সাল। আশাতীত সাফল্য পেল ‘বসু পরিবার’। ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি। এল ১৯৫৩। মুক্তি পেল তাঁর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। ছবির নায়িকা সুচিত্রা সেন। সুপারহিট। এরপর শুধুই সাফল্য। ইতিহাস। নায়ক উত্তম কুমার হয়ে উঠলেন মহানায়ক উত্তম কুমার।

পর পর তিনটি ছবি ফ্লপ। তবুও ছেলেটি হাল না ছেড়ে স্টুডিওপাড়ায় একটা রোলের জন্য ঘুরে বেড়ায়, সবার রংতামাশা হজম করে। ফ্লপ মাস্টার জেনারেল বলে সবাই হাসাহাসি করে। সেই ফ্লপ মাস্টারই আজ বাঙালির হৃদয়ে বাস করেন।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Uttam Kumar

আরো দেখুন