রাজ্য বিভাগে ফিরে যান

ভিড় সামলাতে উড়ছে ড্রোন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মোড়া কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো

November 23, 2020 | 2 min read

আলোয় সেজেছে কৃষ্ণনগর শহর। জগদ্ধাত্রী পুজোর ভিড় সামলাতে শহরে আজ, সোমবার দু’হাজারের বেশি পুলিসকর্মী ময়দানে নামছেন। জেলার বাইরে থেকে আড়াইশোর বেশি পুলিসকর্মী আসছেন। এসআই, এএসআই, র‌্যাফ ছাড়াও অন্য জেলা থেকে দশজন ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিক আসছেন। জেলা পুলিস সূত্রে খবর, কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। ব্যবহার হবে ম্যান প্যাকও। ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। নজর রাখা হবে সিসি ক্যামেরায়। রবিবারই শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় জমে যায়।

জেলার পুলিস সুপার বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, সুষ্ঠুভাবে পুজো সম্পন্ন করতে সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আকাশপথেও নজর রাখা হবে। জেলা পুলিসের এক কর্তা মানছেন, জগদ্বাত্রী পুজোয় যাতে কোনও গণ্ডগোল না হয় সেজন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুজোর দিন অর্থাৎ সোমবার বিভিন্ন জায়গায় পুলিস মোতায়েন থাকছে। বিসর্জনের দিনও যাতে গণ্ডগোল না হয় সেজন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর আগে জগদ্বাত্রী পুজো ( (Jagadhatri Pujo) ঘিরে কৃষ্ণনগরে বহুবার গণ্ডগোল হয়েছে। সামান্য ঘটনা থেকে রক্তারক্তিও হয়েছে। সবদিক ভেবেই পুলিসি নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। তবে এবছর শহরে ভিন্ন চিত্র, ভিন্ন পরিস্থিতি। কোভিডের জন্য আদালতের নির্দেশে এবছর সাঙ হচ্ছে না শহরে। যদিও শহরের একাধিক বারোয়ারি কিছুতেই এই প্রথাকে একবারের জন্যও জলাঞ্জলি দিতে নারাজ।

পুজোর কয়েক ঘণ্টা আগেও রবিবার বৈঠক ডাকে প্রশাসন। সেখানে পুলিস সুপার আবারও জানান, সাঙ করা একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবছর সাঙ করা যাবে না। এরপর জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বক্তব্য রাখতে এলেই পুজো কমিটিগুলির একটা বড় অংশ মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে যান। দাবি একটাই, সাঙ করতে দিতে হবে। পরে অনেক বুঝিয়ে আবার তাঁদের ফেরানো হয়। যদিও এনিয়ে দফায় দফায় হইচই হয়। রাজনৈতিক মিটিং মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে, অথচ সাঙ করার বিরোধিতা কেন করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তড়িঘড়ি মিটিংও শেষ করে দেওয়া হয়। পুজো উদ্যোক্তদের বলতেও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। বৈঠকেই সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র বলেন, আমরা জানি আপনাদের রাগ হচ্ছে। আমরা মিটিং মিছিল করছি, ঠাকুর কী দোষ করল। কিন্তু সব কিছু সাদা-কালো এই ভাবে বিচার করা যায় না। হাইকোর্টের নির্দেশ না মানার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। অনুরোধ করছি, এই বছরটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিন। যদিও এরপরেও সাঙের দাবিতে অনড় থেকেছেন পুজো কমিটিদের একাংশ। জেলাশাসক, জেলার পুলিস সুপার গাড়িতে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও বিক্ষোভ দেখানো হয়। ‘সাঙ হচ্ছে হবে’ স্লোগান তোলা হয়।

পাশাপাশি পুজোয় সময় যানজট নিয়ন্ত্রণেও ঝাঁপিয়ে পড়ছে ট্রাফিক পুলিস। কৃষ্ণনগর শহর পুজোর সময় কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বুড়িমা সহ বেশ কিছু প্রাচীন এবং বারোয়ারির পুজো দেখতে ও পুজো দিতে লম্বা লাইন পড়ে। রাস্তা দিয়ে হাঁটাই কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এবছর করোনা পরিস্থিতি হলেও ভালোই ভিড় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সেজন্য ট্রাফিক পুলিসের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিকের এক কর্তা বলেন, রবিবার থেকেই শহরে বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য পণ্যবাহী গাড়ি, বাস সহ কোনওরকম গাড়িই চলাচল করবে না।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Drone, #Jagaddhatri Puja

আরো দেখুন