রাজ্য বিভাগে ফিরে যান

রেশন গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় গম সরবরাহে অপারগ মোদী সরকার, দায় চাপাল রাজ্যগুলির কাঁধে

May 16, 2022 | 2 min read

কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের রেশন গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় গম সরবরাহ করতে পারছে না। তাই রাজ্য সরকার অতিরিক্ত খরচ করে খোলা বাজার থেকে চাল কিনে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হয়েছে। এর জেরে খাদ্য খাতে রাজ্যের উপর ভর্তুকির বোঝা আরও বাড়বে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জাতীয় স্তরে গম সঙ্কটের বোঝা কেন্দ্র সুকৌশলে রাজ্যগুলির কাঁধে চাপিয়ে দিল। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই বাজারে রেশন গ্রাহকদের খাদ্যশস্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত খরচ করতে হবে রাজ্যকে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই চাল কেনার জন্য টেন্ডার ডাকতে পারে খাদ্যদপ্তর। ৬ লক্ষ টন চাল কেনার জন্য টেন্ডার ডাকা হবে। তবে এ ব্যাপারে খাদ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তারা এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না।

রাজ্যে রেশন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ন’কোটি। এর মধ্যে প্রায় ছ’কোটি রেশন গ্রাহক জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আছেন। রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা রেশন গ্রাহক প্রায় সাড়ে তিন কোটি। রাজ্য প্রকল্পের গ্রাহকদের খাদ্য খাতে ভর্তুকির সম্পূর্ণ আর্থিক দায় রা‌জ্য সরকারের। জাতীয় প্রকল্পের গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয় রাজ্য। দুই ধরনের রেশন গ্রাহকই দু’বছরের বেশি সময় ধরে বিনা পয়সায় চাল-গম পাচ্ছেন।

রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে যে চাল উৎপাদন করা হয়, সেটাই এতদিন রেশনে সরবরাহ করা হতো। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় জাতীয় প্রকল্পের রেশন গ্রাহকদের জন্য মাথাপিছু অতিরিক্ত দু’কেজি করে যে চাল দেওয়া হয়, তা এফসিআই বাইরে থেকে আনত। কয়েক মাস আগে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, এবার এই চালও রাজ্য থেকেই সরবরাহ করা হবে। তার জন্য চলতি খরিফ মরশুমে ৪৯ লক্ষ টনের জায়গায় ৫৫ লক্ষ টন ধান কেনা হবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু গমের ভাঁড়ারে টান পড়ায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দেয়, মে মাস থেকে গরিব কল্যাণ প্রকল্পে রাজ্যে মাথাপিছু ৩ কেজির বদলে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গম দেওয়া হবে। মোট পাঁচ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। গম কমিয়ে চালের পরিমাণ মাথাপিছু ২ কেজি থেকে বৃদ্ধি করে ৩ কেজি ৭৫০ গ্রাম করা হয়। এই গ্রাহকদের সাধারণ বরাদ্দের খাদ্যশস্যর ক্ষেত্রেও এবার গমের পরিমাণ কমিয়ে চাল বাড়ানো হবে।

এই অতিরিক্ত চালের ব্যবস্থা করতে গিয়েই সমস্যায় পড়তে পারে রাজ্য সরকার। কারণ সেক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের গ্রাহকদের চালের ঘাটতি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এফসিআইর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় গম ‘ওপেন সেলে’ মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। সেক্ষেত্রে আবারও গম কমিয়ে চালের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হতে পারে। তাই খোলা বাজার থেকে বেশি দামে চাল কিনতে কার্যত বাধ্য হচ্ছে রাজ্য।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Modi Government, #Ration, #Wheat

আরো দেখুন