বিবিধ বিভাগে ফিরে যান

পয়লা বৈশাখে ভূত পুজোয় মেতে ওঠে ফুলিয়ার তালতলা, চলে মেলা

April 17, 2023 | 2 min read

ফুলিয়ায় ভূতের মেলা বসে

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: ভগবানের পাশাপাশি ভূতের আরাধনাও হয় বাংলায়। সেই উপলক্ষ্যে আবার মেলাও বসে। নতুন বছরের প্রথমদিনে বয়নশিল্পের প্রাণকেন্দ্র ফুলিয়ায় ভূতের মেলা বসে। ফুলিয়ার তালতলায় প্রায় ষাট বছরের বেশি সময় ধরে এই কবন্ধের পুজো এবং মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। বর্তমানে যা ভুতের মেলা নামেই পরিচিত। একদা ওপার বাংলায় এই পুজো শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার বামুন-কুইচা গ্রামে এমন ভূতের পুজোর চল ছিল। জনৈক দুলাল বসাক, পার্বতী বসাক মিলে ফুলিয়ায় পুজো শুরু করেছিলেন। তবে পারিবারিক পুজো এখন গ্রামের মানুষের সাধারণের পুজো।

হাত পা ছড়ানো, এই মূর্তির চেহারা বেশ ভয়ঙ্কর

চৈত্র মাসে শিবের পাটা মাথায় নিয়ে ঘোরেন সন্ন্যাসীরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে চাল, ডাল, আনাজ ইত্যাদি সংগ্রহ করে দিনের শেষে একটি জায়গায় বসে তারা রান্না করে খান। সেখানেই পয়লা বৈশাখের দিন একটি কবন্ধ মূর্তির পুজো করা হয়। মাটির ওপরেই শায়িত থাকে মূর্তি। এখানেই স্থানীয় বাসিন্দারা মূর্তি গড়েন। যার গলা থাকে না, মাথা থাকে না, চোখ, নাক ইত্যাদি একটু নীচের দিকে ঢুকে থাকে। মাটির ওপর এক বিশাল ঢিবি। তার বুকের ওপর তৈরি করা হয় চোখ মুখ নাক। হাত পা ছড়ানো, এই মূর্তির চেহারা বেশ ভয়ঙ্কর। মূর্তির কাছেই গ্রামের মানুষের আর্জি, তাদের সন্তান-সন্ততিকে যেন ভূত ভয় না দেখায়। করোনাকালে তাদের দাবি ছিল, করোনা দূর করো। তাদের আর্জি ছিল, তোমার লম্বা হাতের নাগাল দিয়ে টুটি চেপে ধরো করোনার।

এই মূর্তির চেহারা বেশ ভয়ঙ্কর

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০-৫২ সাল থেকে ফুলিয়ায় এই পুজো আরম্ভ হয়। এই ভূত আসলে কবন্ধ বা নিষ্কন্দা যার উল্লেখ রয়েছে রামায়ণে। পুজো শুরু হয়েছিল যাদব সন্ন্যাসীর হাত ধরে। এখন বারোয়ারি পুজো সংগঠনের উদ্যোগে পুজোর আয়োজন করা হয়। কথিত আছে, দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রাঘাতের কারণে এক রাজার অন্যমতে রাজপুত্রর মস্তক, দেহের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। তিনি কবন্ধ রূপ পান। ইন্দ্র তাকে বলেন কবন্ধ মাটিতে পড়ে থাকলেও সে হাত বহুদূর প্রসারিত করে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। শ্রীরাম এসে তাঁর অঙ্গচ্ছেদ করলে তাঁর মুক্তি হবে। সেই কবন্ধ মূর্তিকেই দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয়। এখানে ভূতকে শিবের চ্যালা হিসাবেই ধরা হয়। মনে করা যায় নতুন বছর শুরুর দিনে শুভ শক্তিকে আহ্বান জানানোর জন্যই এই শুরু করা হয়। পুজোর উদ্দেশ্য ভূতকে তুষ্ট রেখে তার প্রকোপ থেকে নিজেদের রক্ষা করা। পরিবারের কল্যাণের জন্যই এই পুজো। ভূতপুজোকে কেন্দ্র করে বসা গ্রামীণ মেলায় ফুলিয়াসহ শান্তিপুর রানাঘাট হবিপুর থেকে আসা বহু সাধারণ মানুষ সামিল হন।

কবন্ধ মূর্তিকেই দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয়
TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#poila baisakh, #Phuliya, #Taltala, #ghost worship, #Bhoot Pujo

আরো দেখুন