কেন্দ্রীয় সরকার রপ্তানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাজ্যে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: কেন্দ্রীয় সরকার রপ্তানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাজ্যে পেঁয়াজের দামে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অথচ রাজ্যে এবার রেকর্ড পরিমাণ (৭ লক্ষ টন) পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে সরকারি সহায়তায়।
রপ্তানি শুল্ক উঠে যাওয়ায় বিদেশে পেঁয়াজ পাঠানোর পরিমাণ বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ রপ্তানি হয় বাংলাদেশে। এতদিন সেখানে পেঁয়াজ যেত মূলত মহারাষ্ট থেকে। কিন্তু রাজ্যে এবার প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ মজুত হওয়ায় বাংলায় উৎপন্ন পেঁয়াজই বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা বেশি। মহারাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম খরচেই পশ্চিমবঙ্গের পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। কারণ পরিবহণ খরচ তাতে অনেকটাই কম পড়বে। রাজ্য সরকারের খাদ্যসামগ্রী সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজের উপর রপ্তানি শুল্ক তুলে নেওয়ায় আগামী দিনে রাজ্যের বাজারে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৪০০ পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। সেখানে ৫ লক্ষ টনের মতো পেঁয়াজ রাখা যাবে। সরাসরি সরকারি উদ্যোগে ৯০০-র কিছু বেশি ছোট ও বড় মাপের পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকঠামো তৈরি করা হয়েছে। সরকারি আর্থিক ভর্তুকিতে অথবা পুরো নিজস্ব উদ্যোগেও তৈরি হয়েছে বহু পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার। সরকারি উদ্যোগে তৈরি সংরক্ষণাগারগুলি যাতে মার্চ মাসের মধ্যেই চালু করা যায়, তার জন্য সম্প্রতি নবান্নে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
রাজ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণ পরিকাঠামো সম্প্রসারণের সৌজন্যে বিদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে রপ্তানির সুযোগ বেড়ে গিয়েছে। মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতদিন সীমান্ত পথের নিয়মকানুন মেনে রাজ্যের পেঁয়াজ বাংলাদেশে বিশেষ একটা যেত না। বেশকিছু পেঁয়াজ পাচারই হতো ওপার বাংলায়। এবার মহারাষ্ট্রের চেয়ে কম দামে এখানকার পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতে রপ্তানিকারীরা আগ্রহী হতে পারেন। ফলে রাজ্যের বাজারে এই পেঁয়াজের জোগান কমবে।