রাজ্য বিভাগে ফিরে যান

গুজরাতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১৮ জনের মৃত নিয়ে সুকান্ত-দিলীপ-শুভেন্দুরা কি NIA তদন্তের দাবি জানিয়েছেন? উঠছে প্রশ্ন

April 2, 2025 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক,দৃষ্টিভঙ্গি: দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় বাজি থেকে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে পর পর বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকার দক্ষিণ রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা। মজুত করা বাজি থেকে বিস্ফোরণ হয় গ্রামের এক বাড়িতে। দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের আট জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জনের বয়স এক বছরেরও কম। পরিবারের এক সদস্যকে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে কলকাতায়।

ঢোলাহাট বিস্ফোরণকাণ্ডে আটক বাজি কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক। আরেক ভাই তুষার বণিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিস্ফোরক পদার্থ নিয়ে অবহেলা-সহ মোট সাতটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। তিনি বলেন, “আমি এলাকায় এসে দেখলাম, একটা ভয়াবহ ঘটনা। বিস্ফোরণে গোটা এলাকাটাই বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। দুই ভাই ও তাঁদের মা বেঁচে রয়েছেন। অত্যন্ত দুর্ভাগ্য বাচ্চাগুলো মারা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, মোট পরিবারের সংখ্যা ১১, মৃতের সংখ্যা ৮। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আসছেন। নিখুঁত রিপোর্ট দেবেন। আমিও শুনেছি, এখানে বোমা তৈরি হত। থানার আইসি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিনা, সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে।”

পাথরপ্রতিমার বিস্ফোরণ-কাণ্ডের তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (এআইএ) দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে মঙ্গলবার চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি’র প্রাক্তন রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষও এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যদিকে গুজরাতের বনাসকাঁঠা জেলায় মঙ্গলবার বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বনাসকাঁঠার শিল্পাঞ্চল এলাকায় এই বাজি কারখানাটি ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ডীসা শহরে এই বিস্ফোরণে চারজন জখম হয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, এদিন সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাজি কারখানার একাংশ ভেঙে পড়ে। বাজি তৈরির সময় বিস্ফোরণটি ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাজি নির্মাতার পরিবারের লোকজনও সেখানে বসবাস করতেন। তাই ধ্বংসস্তূপের নীচে কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

আর এই দুটো ঘটনা নিয়েই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হচ্ছে রাজ্যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই সুকান্ত মজুমদাররা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। যেমন, পাথরপ্রতিমার ঘটনা নিয়ে তাঁরা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো গুজারাতেও প্রায় একই সময় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার জন্য কি সুকান্ত, দিলীপ, শুভেন্দুরা এনআইএ তদন্তের দাবি জানাবেন?

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী গুজরাতের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিপূরণের কথা জানালেও, সেখানে বাংলার উল্লেখ নেই কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। এই সূত্রেই বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী, বহিরাগত’ তকমা দিয়ে কুণালের বক্তব্য, “দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি। গুজরাতে বাজি-বিস্ফোরণে অনেকে মারা গিয়েছেন। এনআইএ যেতে হলে, তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্য থেকে শুরু করুক।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#dilip ghosh, #sukanta majumder, #NIA, #suvendu adhikari

আরো দেখুন