দেশ বিভাগে ফিরে যান

মোদীর জমানায় এবার দূরদর্শনের চ্যানেলগুলি দেখতে লাগবে কেবল বা ডিটিএইচ সংযোগ

October 19, 2021 | 2 min read

অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দূরদর্শন দেখার দিন পুরোপুরি শেষ হতে চলেছে। ডিডি চ্যানেলগুলি দেখার জন্য এবার শরণ নিতে হবে কেবল বা ডিটিএইচ সংযোগের। অন্তত তেমনই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে প্রসার ভারতীর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে দেশজুড়ে ৪১২টি অ্যানালগ টেরিস্ট্রিয়াল ট্রান্সমিশন (এটিটি) বা রিলে সেন্টার বন্ধ করতে চলেছে তারা। স্বাধীনতার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় ভারত সরকারের ‘মুখপত্র’ হিসেবে অ্যানালগ পরিষেবা দিয়ে আসছে দূরদর্শন। শহরাঞ্চলে ডিটিএইচের দাপট শুরু হয়েছে অনেকদিন। কিন্তু প্রান্তিক অঞ্চলে এখনও বহু মানুষের সহায় ‘মাছের কাঁটা’ সদৃশ টিভি অ্যান্টেনাগুলি। রিলে সেন্টারগুলি বন্ধ হয়ে গেলে পাকাপাকিভাবে সেগুলির ঠাঁই হবে ইতিহাসের পাতায়।দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ অ্যানালগ ট্রান্সমিটার সরানোর কাজ শেষ। সম্প্রতি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রসার ভারতী জানিয়েছে, ২০২২ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তিন দফায় দেশের ৪১২টি এটিটি সেন্টার বন্ধ করা হবে। সেই তালিকায় রয়েছে এ রাজ্যের দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, পুরুলিয়া, শান্তিনিকেতন, ফরাক্কা, বহরমপুর, আসানসোল সহ ২০টি সেন্টার। ফলে পুজো মরশুমে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন দূরদর্শনের হাজার হাজার কর্মী। প্রসার ভারতীর অবশ্য দাবি, এটিটি একটি পুরনো প্রযুক্তি। তাই জন এবং জাতীয় স্বার্থে একে সরিয়ে নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আনা হচ্ছে। ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচারের জন্য কানপুর আইআইটির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে প্রসার ভারতী। এই ৪১২টি সেন্টার বন্ধের ফলে বছরে ১০০ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে।

সেন্টারগুলির জমি বিক্রি করে দেওয়ার মতো নির্দেশিকাও এসেছে। তাই কাজ হারানোর আশঙ্কায় ঘুম ছুটেছে অস্থায়ী কর্মীদের। প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি থেকে রাজনৈতিক দলগুলি। আসানসোলের সেন্টারে ১৯ জন স্থায়ী ও পাঁচজন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। সোমবার সেখানেও ছিল বিষাদের সুর। সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ধনঞ্জয় নিয়োগী বলেন, সেন্টার বন্ধ হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। বদলির আশঙ্কা তাঁর মুখেও স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জমানায় অ্যানালগ ব্যবস্থাকে ডিজিটালে উন্নীত করতে বেছে নেওয়া হয়েছিল ৬৩০টি সেন্টারকে। তার জন্য ধার্য করা হয়েছিল প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬৩০টির পরিবর্তে ২২৮টি সেন্টারকে ডিজিটাল ট্রান্সমিশনের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও মাত্র ১৯টি সেন্টারে এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পরেই থমকে যায় গোটা প্রক্রিয়া। পুরনো ট্রান্সমিটার দিয়ে ডিডি ন্যাশনাল, ডিডি নিউজ ও ডিডি বাংলা চ্যানেলের সিগন্যাল পরিবেশিত হয়।

অ্যাসোসিয়েশন অব আকাশবাণী ও দূরদর্শন ইঞ্জিনিয়ারিং এমপ্লয়িজের সর্বভারতীয় সভাপতি পুলক রায়ের দাবি, ‘এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে আমাদের সিগন্যালিং সিস্টেম যথেষ্ট শক্তিশালী হতো। ফলে ভিনদেশের চ্যানেলের সিগন্যাল এখানে সহজে প্রবেশ করতে পারত না। সীমান্ত এলাকায় দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়াও ডিজিটাল সিস্টেমে বিভিন্ন চ্যানেল দেখিয়ে সরকার বাড়তি রেভিনিউ সংগ্রহ করতে পারত। কিন্তু তা না করে রিলে সেন্টারগুলি বন্ধের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। আমরা সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছি।’এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী মলয় ঘটকের অভিযোগ, সবরকম সরকারি পরিষেবা ও পরিকাঠামো বিক্রি করে দিতে সচেষ্ট মোদি সরকার। এই সেন্টারগুলিও নিজেদের পছন্দের কোনও শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়তো বিজেপি নেতৃত্বের রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#doordarshan, #DTH

আরো দেখুন