পুজো স্পেশাল বিভাগে ফিরে যান

রামপ্রসাদের ভিটেতে আজও পূজিতা হন কালী, প্রসাদময়ী জগদীশ্বরীর কাহিনি জানেন?

November 13, 2023 | < 1 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: সাধক রামপ্রসাদ ছিলেন হালিশহরের মানুষ, যদিও তখন নাম ছিল কুমারহাট। তারপর কুমারহট্ট, সেখান থেকে হয় হাভেলিশহর। অধুনা জনপদটির নাম হালিশহর। আজও হালিশহরে রয়েছে তাঁর বাড়ি। সেখানে পূজিতা হন দেবী কালী। হালিশহরে অবস্থিত রামপ্রসাদ স্মৃতিমন্দির রক্ষণাবেক্ষণ করে কুমারহট্ট-হালিশহর গুডউইল ফ্রেটারনিটি। ভিটের কাছে রয়েছে পঞ্চবটী। সেখানে সাধনা করতেন রামপ্রসাদ।

রামপ্রসাদের জন্ম ১৭২০ সালে। বিগ্রহ নিয়ে তিনি গঙ্গায় বিলীন হয়েছিলেন ১৭৮৬ সালে। হালিশহর স্টেশন থেকে কাছেই রামপ্রসাদ সেনের বসতবাড়ি। সেখানে রয়েছে রামপ্রসাদের কালীমন্দির। সঙ্গে রয়েছে প্রশস্ত নাটমন্দির। মন্দিরের পাশেই রয়েছে পুকুর। যেখানে কালীসাধক রামপ্রসাদ সেন তন্ত্রসাধনা করতেন, সেই পঞ্চবটীর বটগাছের বয়স ৪৫০ বছর। রামপ্রসাদ সেনের দুই মেয়ে ছিল, তাঁরা হলেন জগদীশ্বরী এবং পরমেশ্বরী। মন্দিরের কষ্টিপাথরের দেবী বিগ্রহের নাম প্রসাদময়ী জগদীশ্বরী কালী। জানা যায়, অসমের তেজপুরের জমিদার সুধাংশুকুমার রায় ১৩৬৪ সালের ২৯ জ্যৈষ্ঠ কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তি রামপ্রসাদের বসত ভিটেয় স্থাপন করেছিলেন।

রামপ্রসাদ সেনকে নিয়ে নানান কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তিনি একবার বাড়িতে বেড়া বাঁধছিলেন। তাঁর মেয়ে কাছেই খেলা করছিল। মেয়ের থেকে দড়ি চেয়েছিলেন রামপ্রসাদ। খেলায় ব্যস্ত থাকায় সেই ডাককে গুরুত্ব দেয়নি মেয়েটি। ভক্তদের বিশ্বাস, সেই সময় দেবী নিজেই রামপ্রসাদের মেয়ের রূপ ধরে রামপ্রসাদের হাতে বেড়ার দড়ি তুলে দিয়েছিলেন। রামপ্রসাদ সেন কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের জমিদারির সেরেস্তায় হিসেবের খাতা লিখতেন। হিসেবের খাতায় রামপ্রসাদ সেন দেবী কালীর নামে পদ লিখতেন। হিসেবের খাতায় কাব্য লেখা দেখে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রামপ্রসাদকে হালিশহরের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। রামপ্রসাদের মাসোহারার ব্যবস্থাও করেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র। শোনো যায়, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রামপ্রসাদকে জমিও দান করেছিলেন। যদিও এখন কেবল তাঁর বসতভিটেটুকুই রয়েছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Pujo, #sadhak ramprasad, #Jagadishwari, #Maa Jagadishwari

আরো দেখুন